ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ||

ইতিবাচক ধারায় ফিরছে প্রবাসী আয়

পরিবর্তন নিউস ডেস্ক

  ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৫:২০

তথ্য প্রযুক্তি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা ফিরতে শুরু করেছে। ফলে সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সদ্য বিদায়ী মাসে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ২২২ কোটি ডলার। যদিও আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং সেবা কার্যত বন্ধ ছিল। তখন প্রবাসে থাকা অনেক বাংলাদেশিই দেশে প্রবাসী আয় না পাঠানোর ঘোষণা দেন। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তাঁরাই আগের চেয়ে বেশি আয় পাঠানোর জন্য প্রচারণা শুরু করেন। এর ফলে প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৯১ কোটি ডলার। আর গত বছরের আগস্টে এসেছিল ১৬০ কোটি ডলার। অর্থাৎ সদ্য সমাপ্ত আগস্টে এর আগের মাসের তুলনায় ৩১ কোটি এবং গত বছরের একই মাসের চেয়ে ৬২ কোটি ডলার বেশি এসেছে।


চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে জুনে, যা পরিমাণে ২৫৪ কোটি ডলার। এটি একক মাস হিসেবে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রবাসী আয় আসার রেকর্ড। এর আগে ২০২০ সালের জুলাইয়ে এসেছিল ২৫৯ কোটি ডলার। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৫ কোটি ডলার এসেছে মে মাসে।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

দায়িত্ব নিয়েই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যাংক খাতের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ব্যাংক খাতে টেকসই সংস্কারের জন্য ব্যাংক কমিশন গঠন। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার-সংকট কাটাতে আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যান্ড ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই বৈঠকে। তাতে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণের ক্রলিং পেগ ব্যবস্থায় ডলারের মধ্যবর্তী দাম দাঁড়ায় ১১৭ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা। এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলো এখন ডলারের দাম কিছুটা বেশি দিতে পারছে।

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারি ও সাধারণ ছুটি মিলিয়ে ১৯ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ ছিল। এ ছাড়া টানা ৫ দিন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ১০ দিন মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিল। এ কারণে দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈদেশিক লেনদেন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

গত জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরিস্থিতিতে কিছু জটিলতার কারণে প্রবাসী আয় কমে যায়। এমনকি কোথাও কোথাও প্রবাসী আয় না পাঠানোর দাবিও ওঠে। শোনা যায়, তখন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিদের অনেকেই সোনা কেনায় মনোযোগ দেন। সোনার বার কিনে দেশে নিয়ে এলে একটু বেশি টাকা মিলবে এমন আশায় তাঁরা প্রবাসী আয় না পাঠিয়ে সোনার বার কেনেন। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় বিদেশে আসা-যাওয়ার বিমান টিকিটও বিনা মূল্যে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সে জন্য সোনার বার কেনা বাড়লে বৈধ পথে প্রবাসী আয় কমে যায়। তবে সরকার পরিবর্তন ও ডলারের দাম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসী আয় ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

আলাপকালে বিভিন্ন ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দাম বাড়িয়ে প্রবাসী আয় কেনার যে প্রতিযোগিতা ছিল, তা কমে এসেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি কমায় ব্যাংকগুলোর সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রবাসী আয় বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন বা ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাাঁড়ায় ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার।

মন্তব্য করুন

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের বিশেষ সুযোগ
দেশে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে বিশেষ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক (কেন্দ্রীয় )। বন্যা কবলিত এলাকার স্বল্প মেয়াদি কৃষি এবং সিএমএসএমই খাতের মেয়াদি ঋণের আগস্ট মাসের কিস্তি তিন মাস পরে পরিশোধ করতে পারবেন। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহিতাদের ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয় করা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহিতার স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চিহ্নিত, অন্যান্য বন্যা কবলিত অঞ্চলের ১ জুলাইয়ের বিদ্যমান অশ্রেণিকৃত (খেলাপি নয়) স্বল্প মেয়াদি কৃষি এবং সিএমএসএমই ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয় সহজ করতে বলা হয়েছে। স্বল্প মেয়াদি কৃষি এবং সিএমএসএমই খাতের মেয়াদি ঋণগ্রহিতাগণের আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসের ঋণের কিস্তি সংশ্লিষ্ট ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবে। সিএমএসএমই খাতের যেসব চলমান ঋণ আগস্ট-২০২৪ হতে অক্টোবর ২০২৪ মাসের মধ্যে সমন্বয়যোগ্য সেসব ঋণের সমন্বয়ের মেয়াদ দিন মাস বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। বিলম্বে পরিশোধিত অর্থের উপর নিয়মিত সুদ ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার দণ্ড সুদ, অতিরিক্ত সুদ, অতিরিক্ত মুনাফা, বিলম্ব ফি জরিমানা (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আদায় বা আরোপ করা যাবে না। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের বিশেষ সুযোগ
৯ ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টিসহ মোট নয়টি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। নিষেধাজ্ঞায় এসব ব্যাংকের পে-অর্ডার, চেক ও ব্যাংক গ্যারান্টি না নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর সব বিভাগীয় প্রধানদের চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশ দেন। ব্যাংকগুলো হলো—গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। ৯ ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৯ ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ  এক্সিম ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন খাতে টাকা পায়। জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিছু ব্যাংকের পে-অর্ডার ও চেক ক্যাশ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আরও জটিলতা এড়াতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
৯ ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
বিগত সরকারের রপ্তানির তথ্যে গরমিল ছিল: অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিগত সরকারের শেষ সময়ে রপ্তানির তথ্যে গরমিল ছিল। ওই সময় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রপ্তানি তথ্যে অমিল ছিল। ওই তথ্য শিগগির সমন্বয় করা হবে। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ইপিবির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণের একটি প্রজেকশনও তৈরি করতেও ইপিবিকে বলা হয়েছে। রপ্তানি তথ্যসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আগে রপ্তানির তথ্য কিছু অমিল ছিল। আমি তাদের (ইপিবি) শেষ পর্যন্ত রপ্তানির তথ্য সমন্বয় করতে বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব তা করা হবে। একটি প্রজেকশনও তৈরি করতে বলেছি যে, আমাদের রপ্তানি সামনে কত হবে। শেষ অর্থবছরে ইপিবি তাদের রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেনি, সেটি কবে করা হবে এমন প্রশ্নে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শিগগির ইপিবির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সব বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। ইপিবি কর্মকর্তারা রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্তকরণ এবং তথ্য সমন্বয়ে কাজ করছেন এবং বোর্ড সভায় সমস্ত বিষয় অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। জিডিপির তথ্যেও কোনো পরিবর্তন আসতে পারে কিনা এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ওটা দেখছি। এটা আমাদের উৎপাদনকে কেন্দ্র করে করা হয়, অনেক খাত জড়িত। প্রায় ১৯টি খাত। এটা আপনারা জানতে পারবেন। ছেঁড়া এবং জরাজীর্ণ মুদ্রা এবং ব্যাংক নোট বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রায়শই ঘটে কারণ দেশবাসী তাদের নোটগুলিকে ভুলভাবে পরিচালনা করে। এখানে রাখে, ওখানে রাখে। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশে এমন অব্যবস্থাপনা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করবো, তবে নতুন নোটগুলি না থাকলে, এখনই পুরনো মুদ্রা এবং ব্যাংক নোটগুলি প্রতিস্থাপন করা যাবে না। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদ কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল করায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা এডিপি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করবেন। প্রয়োজনে জাতীয় বাজেট সংশোধন করা হবে। আমরা অহেতুক সব খরচ বন্ধ করে যুক্তিসঙ্গত করব। বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মো. সেলিম উদ্দিন, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিগত সরকারের রপ্তানির তথ্যে গরমিল ছিল: অর্থ উপদেষ্টা